টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত ও সুসংরক্ষিত নিদর্শন মহেরা জমিদারবাড়ি। উনিশ শতকের শেষভাগে নির্মিত এই জমিদারবাড়ি একদিকে যেমন বাংলার জমিদারি শাসনব্যবস্থার সাক্ষ্য, অন্যদিকে তেমনি ইউরোপীয় ও দেশীয় স্থাপত্যরীতির সমন্বয়ের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি এক দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য।
মহেরা জমিদারবাড়ি কেন যাবেন?
মহেরা জমিদারবাড়ির মূল আকর্ষণ এর স্থাপত্যিক বৈচিত্র্য ও পরিকল্পিত বিন্যাস। বিস্তৃত প্রাঙ্গণ, পৃথক পৃথক ভবন ও খোলা উঠান জমিদার পরিবারের সামাজিক ও প্রশাসনিক জীবনের ধারণা দেয়।
ইতিহাসপ্রেমী ও স্থাপত্য অনুরাগীদের পাশাপাশি ফটোগ্রাফারদের কাছেও জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে আলো-ছায়ার খেলায় ভবনগুলোর নান্দনিকতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
মহেরা জমিদারবাড়ি যা দেখবেন
এই জমিদারবাড়ি মূলত তিনটি প্রধান ভবন নিয়ে গঠিত—আনন্দ কুঠি, নীল কুঠি ও রানী ভবন। প্রতিটি ভবনের নকশা আলাদা।
উঁচু স্তম্ভ, প্রশস্ত বারান্দা, খিলানযুক্ত দরজা ও জানালা এবং ছাদের কার্নিশে ইউরোপীয় প্রভাব স্পষ্ট। ভেতরের কক্ষগুলোতে কাঠের দরজা-জানালা, প্রশস্ত হলরুম ও সিঁড়ির নকশা নজর কাড়ে।
পুরো কমপ্লেক্সের চারপাশে খোলা সবুজ মাঠ ও গাছপালা স্থাপনাগুলোকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের আওতায় থাকায় পরিবেশ তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
মহেরা জমিদারবাড়ি কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বাস পাওয়া যায়। টাঙ্গাইল সদর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশায় কালিহাতী উপজেলার মহেরা গ্রামে পৌঁছানো যায়।
ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে এলেঙ্গা হয়ে মহেরা সংযোগ সড়ক ব্যবহার করা সুবিধাজনক। সকালে রওনা দিলে দুপুরের মধ্যেই জমিদারবাড়ি ঘুরে দেখা সম্ভব।
মহেরা জমিদারবাড়ি কোথায় খাবেন?
মহেরা জমিদারবাড়ির আশপাশে পর্যটনমানের রেস্টুরেন্ট নেই। খাবারের জন্য টাঙ্গাইল সদর বা এলেঙ্গা বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
টাঙ্গাইলে স্থানীয় হোটেলগুলোতে ভাত, মাছ, মাংস ও সাধারণ বাঙালি খাবার সহজেই পাওয়া যায়। দিনের সফরে গেলে ঘোরার আগে বা পরে টাঙ্গাইল শহরেই খাবার সেরে নেওয়া বাস্তবসম্মত।
মহেরা জমিদারবাড়ি কোথায় থাকবেন?
মহেরা এলাকায় রাতযাপনের ব্যবস্থা নেই। থাকার প্রয়োজন হলে টাঙ্গাইল শহরে অবস্থান করতে হবে। সেখানে কয়েকটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে।
অনেকে ঢাকায় ফিরে রাতযাপন করাকেই সুবিধাজনক মনে করেন, কারণ দূরত্ব তুলনামূলক কম।
জমিদারবাড়িটি একটি সরকারি প্রশিক্ষণ এলাকার মধ্যে হওয়ায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রবেশ নিষেধ থাকতে পারে।
ভবনের ভেতরে কোথাও কোথাও সিঁড়ি ও মেঝে পুরনো – হাঁটার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ছবি তোলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানা উচিত। গ্রীষ্মকালে রোদ তীব্র থাকে, তাই সকাল বা বিকেলের সময় ভ্রমণ উপযোগী।

