পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত আর্মেনিয়ান চার্চ রাজধানীর প্রাচীনতম খ্রিস্টান উপাসনালয়গুলোর একটি। ১৭৮১ সালে নির্মিত এই চার্চ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।
ঢাকায় বসবাসকারী আর্মেনিয়ান ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে চার্চটি আজও গুরুত্ব ধরে রেখেছে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে যেতে হবে গুলিস্তান বা সদরঘাট এলাকায়। গুলিস্তান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে সরাসরি আরমানিটোলা বলা যায়।
সদরঘাট থেকে হেঁটেও যাওয়া সম্ভব—সময় লাগবে ১০–১৫ মিনিট। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে নাজিমউদ্দিন রোড ধরে আরমানিটোলার দিকে ঢুকতে হবে।
সরু গলি ও ভিড়ের কারণে গাড়ি পার্কিং কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ, তাই গণপরিবহন বা রিকশাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।যা দেখবেনচার্চের প্রধান আকর্ষণ এর ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলী।
লাল ইটের গাঁথুনি, উঁচু খিলান, সাদা স্তম্ভ ও ঘণ্টাঘর চোখে পড়ার মতো। ভেতরে ঢুকলে কাঠের পুরোনো বেঞ্চ, প্রার্থনাকক্ষের সরল নকশা এবং দেয়ালে খ্রিস্টীয় মোটিফ দেখা যাবে।
চার্চ চত্বরেই রয়েছে আর্মেনিয়ান কবরস্থান—ঢাকার ইতিহাসে প্রভাবশালী অনেক আর্মেনিয়ান ব্যবসায়ীর সমাধি এখানে সংরক্ষিত। কবরফলকে খোদাই করা ইংরেজি ও আর্মেনিয়ান ভাষার লেখাগুলো থেকে তখনকার ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের ধারণা পাওয়া যায়।
চার্চের আশপাশের আরমানিটোলা এলাকা ঘুরলে পুরান ঢাকার পুরোনো বসতবাড়ি ও গলির জীবনও দেখা যাবে।
কোথায় খাবেন
চার্চ ভ্রমণের পর খাবারের জন্য পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এলাকাই সবচেয়ে ভালো পছন্দ। আরমানিটোলা থেকে অল্প দূরত্বে চাঁনখারপুল, বকশিবাজার ও নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় রয়েছে কাবাব, বিরিয়ানি ও পুরান ঢাকার বিশেষ খাবারের দোকান।
হাজী বিরিয়ানি, নান্না কাবাব কিংবা স্থানীয় ছোট খাবারের দোকান থেকে তেহারি ও কাবাব সহজেই পাওয়া যায়। হালকা নাশতার জন্য পুরান ঢাকার বেকারি ও চা-দোকানও রয়েছে আশপাশে।
কোথায় থাকবেন
চার্চের আশপাশে পর্যটকমানের হোটেল খুব বেশি নেই। তবে ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় থাকার পরিকল্পনা করলে গুলিস্তান, মতিঝিল বা শাহবাগ এলাকার হোটেলগুলো সুবিধাজনক।
এখান থেকে দিনে পুরান ঢাকা ঘুরে আবার মূল শহরে ফেরা সহজ। বাজেট অনুযায়ী গেস্টহাউস থেকে শুরু করে মাঝারি মানের হোটেল—সব ধরনের অপশন এসব এলাকায় পাওয়া যায়।
চার্চটি এখনো ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই ভেতরে ঢোকার সময় পোশাক ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। ছবি তুলতে চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়াই ভালো। সকাল বা দুপুরের আগের সময় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, কারণ তখন ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।

