পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত বড় কাটরা মূলত একটি মুঘল আমলের সরাইখানা বা কারভানসরাই হিসেবে নির্মিত হলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় এটি মসজিদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা—দুই পরিচয়েই পরিচিত।
১৬৪৪ সালে মুঘল সুবাদার শাহ শুজার নির্দেশে নির্মিত এই স্থাপনাটি ঢাকার নগর ইতিহাস, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও ইসলামি স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে গুলিস্তান বা সদরঘাট এলাকায় আসতে হবে। গুলিস্তান থেকে রিকশা বা সিএনজিতে সরাসরি বড় কাটরা বলা যায়।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ১০ মিনিটের মতো। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে নাজিমউদ্দিন রোড হয়ে ইসলামপুরের দিকে ঢুকতে হয়, তবে সরু রাস্তা ও যানজটের কারণে গাড়ি পার্কিং বেশ ঝামেলাপূর্ণ। তাই রিকশা বা গণপরিবহনই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
যা দেখবেন
বড় কাটরার মূল বিশেষত্ব এর স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য। একসময় এটি ছিল বহুতল বিশিষ্ট বিশাল সরাইখানা, যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী ও কাফেলারা বিশ্রাম নিতেন।
বর্তমানে স্থাপনাটির বড় অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মূল প্রবেশদ্বার, খিলান, মিহরাব ও কিছু দেয়াল এখনো মুঘল স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করে। ভিতরের অংশে বর্তমানে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত একটি অংশ রয়েছে, যেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়।
পাশাপাশি, প্রবেশদ্বারের ওপর খোদাই করা আরবি ও ফারসি শিলালিপি থেকে নির্মাণকাল ও দানকারীর পরিচয় জানা যায়। আশপাশে ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকা, পুরোনো গলি ও বাণিজ্যিক দোকানপাট মিলিয়ে বড় কাটরা এলাকাটি ইতিহাস ও জীবনের মিশ্র দৃশ্য তুলে ধরে।
কোথায় খাবেন
বড় কাটরার আশপাশেই পুরান ঢাকার খাবারের স্বর্গরাজ্য। ইসলামপুর, চাঁনখারপুল ও নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় তেহারি, কাবাব, নেহারি ও বিরিয়ানির অসংখ্য দোকান রয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী হাজী বিরিয়ানি, নান্না কাবাব বা স্থানীয় ছোট খাবারের দোকান থেকে সাশ্রয়ী দামে পুরান ঢাকার স্বাদ পাওয়া যায়। হালকা নাশতার জন্য চা-দোকান ও বেকারিও সহজেই চোখে পড়বে।
কোথায় থাকবেন
বড় কাটরা এলাকায় পর্যটকমানের হোটেল খুব সীমিত। থাকার জন্য গুলিস্তান, মতিঝিল বা পুরান ঢাকার আশপাশের কিছু গেস্টহাউস ব্যবহারযোগ্য।
তুলনামূলক ভালো সুবিধার জন্য শাহবাগ, ফার্মগেট বা পান্থপথ এলাকার হোটেল বেছে নেওয়াই বাস্তবসম্মত। এসব এলাকা থেকে দিনে পুরান ঢাকা ঘুরে আবার শহরের মূল অংশে ফেরা সহজ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান অবস্থা
বড় কাটরার বিশেষত্ব শুধু এর প্রাচীনত্বে নয়, বরং ঢাকার নগর গঠনে এর ভূমিকার মধ্যেই। এটি একসময় বাণিজ্য, আবাসন ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র ছিল।
দখল, অব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি আজ অস্তিত্ব সংকটে থাকলেও এখনো এটি মুঘল ঢাকার এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে বড় কাটরা ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল।

