রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত জীবনে বিনোদনের জায়গা খুব বেশি নয়। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কিছু স্থান নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। তেমনই একটি জায়গা নেভারল্যান্ড।
পরিবার, শিশু-কিশোর কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা অবসর সময় কাটানোর জন্য এটি রাজধানীর একটি পরিচিত বিনোদনকেন্দ্র।
নেভারল্যান্ড মূলত একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, যেখানে বিনোদনের সঙ্গে রাখা হয়েছে পারিবারিক পরিবেশের বিষয়টি। আধুনিক রাইড, সাজানো পরিবেশ এবং শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদন ব্যবস্থার কারণে এটি রাজধানীর অন্য অনেক পার্ক থেকে কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। ছুটির দিন কিংবা বিকেলের দিকে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
পার্কটির নকশা এবং সাজসজ্জায় রঙিন ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে নানা ধরনের স্থাপনা, রাইড এবং বিনোদন স্পট।
শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা খেলার জায়গা, যেখানে তারা নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে। নেভারল্যান্ডে শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও রয়েছে কয়েকটি জনপ্রিয় রাইড। নাগরদোলা, বাম্পার কার, মিনি ট্রেন কিংবা অন্যান্য বিনোদনমূলক রাইড দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
এসব রাইডে চড়তে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও আগ্রহ দেখান। পার্কের ভেতরে হাঁটার জন্য খোলা পথ এবং বসার জায়গা থাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজন কিছুটা স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারেন।
শুধু বিনোদন নয়, অনেক সময় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বা ছোটখাটো পারিবারিক আয়োজনের স্থান হিসেবেও নেভারল্যান্ড ব্যবহৃত হয়। জন্মদিন বা ছোটখাটো উদযাপন করার জন্য পার্কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ভাড়া দেওয়া হয়। ফলে এটি অনেকের কাছে একটি পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
ঢাকার নগরায়নের ভিড়ে সবুজ ও বিনোদনের মিশ্র পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে এই পার্কে। গাছপালা, খোলা জায়গা এবং রঙিন আলোকসজ্জা সন্ধ্যার পর পার্কটির পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে অনেক দর্শনার্থী বিকেলের পর এখানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
যা দেখবেন
নেভারল্যান্ডে গেলে চোখে পড়বে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিউজমেন্ট রাইড। নাগরদোলা, বাম্পার কার, শিশুদের জন্য মিনি ট্রেন ও ক্যারোসেল অন্যতম আকর্ষণ।
এছাড়া পার্কের ভেতরের রঙিন স্থাপনা, হাঁটার পথ এবং বসার জায়গাগুলোও দর্শনার্থীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। সন্ধ্যার সময় আলোকসজ্জায় পার্কের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে সহজেই নেভারল্যান্ডে পৌঁছানো যায়।
রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করে পার্কের কাছাকাছি নামা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলে পার্কের আশপাশে পার্কিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।
কোথায় খাবেন
পার্কের ভেতরে হালকা খাবার ও ফাস্টফুডের কয়েকটি স্টল রয়েছে। এছাড়া কাছাকাছি এলাকায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বার্গার, ফ্রাইড চিকেন, কাবাব কিংবা দেশি খাবার পাওয়া যায়।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে গেলে অনেকেই পার্কে সময় কাটানোর পর আশপাশের রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে থাকেন।
কোথায় থাকবেন
নেভারল্যান্ডের আশপাশে বড় পর্যটন হোটেল খুব বেশি নেই। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। কাছাকাছি এলাকার হোটেলগুলোতে স্বল্প খরচে থাকা যায়, আর উন্নত মানের থাকার জন্য ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অনেক হোটেল পাওয়া যায়।
নগর জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা অবসর ও বিনোদনের সময় কাটানোর জন্য নেভারল্যান্ড অনেকের কাছে একটি সহজলভ্য গন্তব্য। পারিবারিক পরিবেশ, রাইডের বৈচিত্র্য এবং সাজানো বিনোদন স্পটই এটিকে রাজধানীর একটি আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

