ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে অবস্থিত শহিদ বরকত স্মৃতি জাদুঘর ভাষা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই জাদুঘরটি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহিদ আবুল বরকতের স্মৃতি ধারণ করে রেখেছে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মাহুতি দেওয়া এই তরুণের স্মৃতিকে ধারণ করে জাদুঘরটি আজ ইতিহাস, চেতনা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর পাকিস্তান সরকার যখন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন আবুল বরকতসহ আরও কয়েকজন তরুণ। সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ করতেই শহিদ বরকতের বাসভবনকে পরবর্তীতে জাদুঘরে রূপ দেওয়া হয়।
এই জাদুঘরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভাষা আন্দোলনের সময়কার নানা দলিল, আলোকচিত্র ও স্মারক সংরক্ষণ। এখানে শহিদ বরকতের ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণের নানা তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
দর্শনার্থীরা জাদুঘরে ঢুকেই দেখতে পান বরকতের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, ঐতিহাসিক ছবি এবং ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রের প্রতিলিপি। এসব উপাদান দর্শনার্থীদের সামনে সেই সময়কার আন্দোলনের আবহ তুলে ধরে।
জাদুঘরের ভেতরের প্রদর্শনীগুলোতে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনাবলি, ছাত্রদের মিছিল, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং শহিদদের স্মরণে গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিস্তৃতি এখানে ছবির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
পাশাপাশি বরকতের জীবন ও সংগ্রাম সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ বিবরণ দর্শনার্থীদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দেয়।
শহিদ বরকত স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এখানে নানা স্মরণানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, গবেষক এবং ইতিহাসপ্রেমীরা ভাষা আন্দোলনের বাস্তব ইতিহাস জানার জন্য এই জাদুঘরে আসেন।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যে কোনো স্থান থেকে শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসে সহজেই শহিদ বরকত স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছানো যায়। শাহবাগ মোড় থেকে রিকশা বা হেঁটে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই জাদুঘরে যাওয়া সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে হেঁটেও কয়েক মিনিটের পথ।
যা দেখবেন
জাদুঘরে শহিদ বরকতের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী, ভাষা আন্দোলনের সময়কার আলোকচিত্র, দলিলপত্রের অনুলিপি এবং আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা তথ্যচিত্র দেখা যায়।
এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত রয়েছে। পুরো পরিবেশটি ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ঘিরে নির্মিত।
কোথায় খাবেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খাবারের বেশ কিছু পরিচিত স্থান রয়েছে। টিএসসি, নীলক্ষেত ও শাহবাগ এলাকায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে সাশ্রয়ী দামে খাবার পাওয়া যায়।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে ফাস্টফুড থেকে শুরু করে দেশি খাবারেরও ভালো ব্যবস্থা আছে।
কোথায় থাকবেন
দূর থেকে এলে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বা মতিঝিলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে থাকা যেতে পারে। এসব এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যায়, যেখানে পর্যটকরা সহজেই রাতযাপন করতে পারেন। এছাড়া গুলিস্তান ও পল্টন এলাকাতেও মাঝারি মানের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

