ঢাকার রমনা এলাকায় অবস্থিত রমনা পার্ক বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ নগর উদ্যানগুলোর মধ্যে একটি। ১৬১০ সালে স্থাপিত এই পার্কটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে ছায়া, সবুজ আর শান্তির এক নীরব ঠিকানা হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
প্রায় ৬৮ একরের বেশি জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রমনা পার্ক শুধু বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষণ, সংস্কৃতি ও বিনোদনের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পার্কের সবুজ প্রাঙ্গণে রয়েছে ২১১ প্রজাতির গাছের সমাহার। নানা ধরনের গাছপালা ও ফুলের গাছের পাশাপাশি ফলদ্রব্য এবং বনজ উদ্ভিদ এখানে দর্শকদের চোখে পড়বে। পাখি ও ছোট প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পার্কটি পরিচিত। তাই সকাল-বিকেলের সময় পাখির ডাক ও গাছের ছায়ার নীরবতা ভ্রমণকারীদের মনকে শিথিল করে।
রমনা পার্ক শুধু প্রকৃতির জন্য নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বিখ্যাত। এখানে বিভিন্ন সংগঠন এবং ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে সাহিত্য, সঙ্গীত, নাটক ও চিত্রকলা সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিল্পী ও সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলেই পার্কে এসে মনোরম পরিবেশে নিজেদের সময় কাটাতে পারেন।
পার্কের বিভিন্ন সেতু, ফুটপাথ ও ছোট-বড় লেক পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পরিবার, বন্ধু বা জুটি সবাই এখানে ঘুরতে আসতে পারেন। বিকেলের সময় হাঁটার পথ, জগিং ট্র্যাক এবং শিশুদের জন্য খেলার জায়গা পার্কের আকর্ষণ। এছাড়া পার্কের কেন্দ্রীয় এলাকায় কিছু ছোট চিত্রশালা ও তথ্যকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে উদ্যানের ইতিহাস এবং বিভিন্ন গাছপালার তথ্য পাওয়া যায়।
কিভাবে যাবেন
রমনা পার্ক ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো জায়গা থেকে সহজেই পৌঁছানো যায়। ধানমন্ডি, বনানী বা গুলশান থেকে বাস, সিএনজি অটোরিকশা বা রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করে ১০-১৫ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব।
পার্কের মূল প্রবেশদ্বার ধানমন্ডি রোডের পাশে।
যা দেখবেন
২১১ প্রজাতির গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ছোট-বড় লেক, হাঁটার পথ, শিশুদের খেলার মাঠ এবং পার্কের স্থাপত্যিক সৌন্দর্য। এছাড়া ছায়ানটের সাংস্কৃতিক আয়োজন ও প্রদর্শনী দেখতে পেয়ে দর্শনার্থীরা শিক্ষা ও বিনোদন একসাথে উপভোগ করতে পারেন।
কোথায় খাবেন
পার্কের আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট ও খাবারের স্টল। ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানী এলাকায় দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড সহজে পাওয়া যায়। পার্কের ভেতরে ছোট খাবারের স্টলেও হালকা নাস্তা ও পানীয় রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
রমনা পার্কের কেন্দ্রীয় অবস্থান থাকায় আশেপাশে অনেক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। ধানমন্ডি, বনানী বা গুলশান এলাকার হোটেল থেকে শহরের অন্যান্য জায়গায় সহজে যাতায়াত করা যায়। হোটেলগুলোর মধ্যে স্বল্প বাজেট থেকে শুরু করে উচ্চ মানের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা রয়েছে।
রমনা পার্ক শুধু সবুজের জন্য নয়, ইতিহাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মিলনস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। শহরের কোলাহলের মাঝেও এখানে এসে দর্শনার্থীরা শান্তি, নীরবতা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করতে পারেন।

