ঢাকার কোলাহল থেকে একটু দূরে, পূর্বাচলের গুদারা ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে অনন্য এক বিনোদনকেন্দ্র। নাম নকশী পল্লী।
নামের মতোই এখানে ছড়িয়ে আছে গ্রামীণ জীবনের নকশা, প্রকৃতির শান্ত আবহ এবং নদীপারের নির্মল সৌন্দর্য। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি খুঁজতে অনেকেই এখন ভিড় করছেন এই পল্লীতে।
নকশী পল্লীর মূল আকর্ষণ এর গ্রামীণ আবহে সাজানো পরিবেশ। এখানে ঢুকলেই চোখে পড়ে কাঁচা রাস্তার আদলে তৈরি পথ, মাটির ঘর, খড়ের ছাউনি এবং গ্রামীণ অলংকরণে সাজানো নানা স্থাপনা।
চারপাশে সবুজ গাছপালা, ফুলের বাগান এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা দর্শনার্থীদের মনকে সহজেই প্রশান্ত করে তোলে। শহরের কংক্রিটের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এখানে এলে যেন এক টুকরো গ্রামবাংলার স্বাদ পাওয়া যায়।
নকশী পল্লীতে রয়েছে নানা ধরনের আকর্ষণীয় স্থাপনা ও বিনোদনের ব্যবস্থা। মাটির তৈরি ঘর, গ্রামীণ কারুকাজে সাজানো দেয়াল, ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথার মোটিফে তৈরি ভাস্কর্য ও অলংকরণ দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
অনেক জায়গায় বসে ছবি তোলার জন্য আলাদা স্পট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পরিবার, বন্ধু বা ভ্রমণপিপাসুরা স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন ক্যামেরায়। এছাড়া নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে হাঁটার পথ এবং বসার জায়গা।
নদীর বাতাস আর প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে সময় কাটানো এখানে আসা দর্শনার্থীদের কাছে বড় আকর্ষণ। সন্ধ্যার দিকে নদীপাড়ের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের আলো নদীর জলে পড়ে এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি করে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে যেতে হবে পূর্বাচল এলাকায়। কুড়িল বিশ্বরোড বা ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে সহজেই পূর্বাচলে পৌঁছানো যায়।
সেখান থেকে স্থানীয় সিএনজি, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলযোগে গুদারা ঘাট এলাকায় যেতে হবে। গুদারা ঘাটের কাছেই অবস্থিত নকশী পল্লী। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে গেলে রাস্তা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক এবং দ্রুত পৌঁছানো যায়।
যা দেখবেন
নকশী পল্লীতে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন গ্রামীণ নকশায় তৈরি কুটির, মাটির ঘর, খড়ের ছাউনি এবং ঐতিহ্যবাহী অলংকরণ। বিভিন্ন স্থানে নকশিকাঁথার আদলে তৈরি শিল্পকর্ম এবং ভাস্কর্য রয়েছে।
নদীপাড়ের মনোরম দৃশ্য, সবুজ বাগান এবং খোলা আকাশের নিচে বসার জায়গাগুলো ভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। ছবি তোলার জন্য সাজানো নানা স্পটও রয়েছে এখানে।
কোথায় খাবেন
নকশী পল্লীর আশপাশে ছোটখাটো খাবারের দোকান ও স্থানীয় রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে ভাজাপোড়া, নুডলস, চা-কফি কিংবা হালকা নাশতা পাওয়া যায়।
এছাড়া পূর্বাচল ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বেশ কিছু মানসম্মত রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে বিরিয়ানি, কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। অনেক দর্শনার্থী ঘুরে এসে সেসব রেস্টুরেন্টেই খাবারের জন্য যান।
কোথায় থাকবেন
নকশী পল্লীর ভেতরে সাধারণত থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে কাছাকাছি এলাকায় রাতযাপনের জন্য ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউস ব্যবহার করা যায়। কুড়িল, বনানী বা গুলশান এলাকায় মাঝারি ও মানসম্মত অনেক হোটেল রয়েছে, যেখানে সহজেই থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
প্রকৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং নদীপারের শান্ত পরিবেশ এই তিনের সমন্বয়ে নকশী পল্লী হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাছাকাছি এক আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থল। ব্যস্ত শহুরে জীবনের ফাঁকে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাতে চাইলে এই পল্লী হতে পারে একটি ভিন্নধর্মী গন্তব্য।

