ঢাকার ব্যস্ত প্রশাসনিক এলাকার মাঝেই বিস্তৃত সবুজের একটি স্বস্তিদায়ক জায়গা হলো ওসমানী উদ্যান। নগর সচিবালয়ের সংলগ্ন এই উদ্যানটি প্রায় ২৩.৩৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে এটি রাজধানীর অন্যতম পুরোনো ও পরিচিত উন্মুক্ত পার্ক হিসেবে নাগরিকদের বিশ্রাম, হাঁটা ও অবসরের স্থান হয়ে আছে। ব্যস্ত শহরের ধুলা–ধোঁয়া আর যানজটের ভিড়ের মধ্যেও এখানে ঢুকলেই চোখে পড়ে সবুজ গাছপালা, খোলা মাঠ আর শান্ত পরিবেশ।
ঢাকার প্রশাসনিক কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ওসমানী উদ্যান শুধু সাধারণ দর্শনার্থীদেরই নয়, বরং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং পথচারীদের কাছেও জনপ্রিয় একটি জায়গা। সকালে হাঁটা, বিকেলে আড্ডা কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য প্রকৃতির কাছে থাকার সুযোগের মিশেল শহুরে জীবনে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থানে পরিণত করেছ।
উদ্যানটির তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের যাতায়াতকে সহজ করেছে। সচিবালয় সংলগ্ন প্রবেশপথ ছাড়াও আশপাশের প্রধান সড়ক থেকে সহজেই উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করা যায়। প্রবেশ করলেই বড় বড় ছায়াঘেরা গাছ, সবুজ ঘাসের মাঠ এবং হাঁটার জন্য নির্ধারিত পথ চোখে পড়ে।
যা দেখবেন
ওসমানী উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে রয়েছে বড় বড় পুরোনো গাছ, খোলা সবুজ মাঠ এবং হাঁটার জন্য বিস্তৃত পথ। সকালের দিকে অনেক মানুষকে এখানে ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়।
বিকেলে আবার তরুণদের আড্ডা, পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি কিংবা শিশুদের খেলাধুলার দৃশ্যও চোখে পড়ে। উদ্যানের ভেতরে বসার জন্য বিভিন্ন বেঞ্চ রয়েছে, যেখানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যায়।
পাখির ডাক আর গাছের ছায়া মিলিয়ে এখানে তৈরি হয় একটি প্রশান্ত পরিবেশ। শহরের মাঝখানে থেকেও এখানে অনেকটা গ্রামীণ সবুজের অনুভূতি পাওয়া যায়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে সহজেই ওসমানী উদ্যানে যাওয়া যায়। এটি নগর সচিবালয়ের পাশেই অবস্থিত হওয়ায় গুলিস্তান, পল্টন বা প্রেসক্লাব এলাকা থেকে হেঁটেই পৌঁছানো সম্ভব।
মিরপুর, উত্তরা বা ধানমন্ডি থেকে আসতে চাইলে বাসে গুলিস্তান বা প্রেসক্লাব এলাকায় নামতে হবে। এরপর অল্প হাঁটলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে উদ্যানে। রিকশা বা রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করেও সরাসরি এখানে পৌঁছানো যায়।
কোথায় খাবেন
ওসমানী উদ্যানের আশপাশে খাবারের বেশ কিছু জনপ্রিয় স্থান রয়েছে। গুলিস্তান, পল্টন এবং প্রেসক্লাব এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে সহজেই দেশি খাবার পাওয়া যায়। ভাত, ভর্তা, মাছ বা মাংসের সাধারণ খাবারের পাশাপাশি ফাস্টফুড ও নাস্তার দোকানও রয়েছে।
এছাড়া রাস্তার পাশে বিভিন্ন ছোট খাবারের দোকানেও চা, সমুচা, পুরি কিংবা হালকা নাস্তা পাওয়া যায়, যা অনেক দর্শনার্থীর কাছে আকর্ষণীয়।
কোথায় থাকবেন
দূর থেকে ঢাকায় ঘুরতে এলে ওসমানী উদ্যানের আশপাশে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের হোটেল পাওয়া যায়। পল্টন, মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায় রয়েছে মাঝারি মানের অনেক আবাসিক হোটেল।
তুলনামূলক ভালো মানের থাকার ব্যবস্থা চাইলে শাহবাগ বা ধানমন্ডি এলাকার হোটেলগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে।যোগাযোগ সুবিধা ভালো হওয়ায় এসব জায়গা থেকে সহজেই ওসমানী উদ্যানে যাতায়াত করা যায়। রাজধানীর ব্যস্ততার মাঝেও সবুজে ঘেরা এই উদ্যান তাই অল্প সময়ের জন্য হলেও নাগরিকদের জন্য স্বস্তির একটি জায়গা হয়ে আছে।

