ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে গেলে মুহূর্তেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি চলে যাওয়া যায়।
রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত দিয়াবাড়ি তেমনই একটি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল। খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ মাঠ, জলাশয় আর শরৎকালের কাশফুলের মিশেল দিয়াবাড়ি এখন ঢাকার মানুষের কাছে স্বস্তির একটি ঠিকানা।
এক সময় তুরাগ নদীর একটি শাখা নদী বয়ে যেত এই এলাকার পাশ দিয়ে। সময়ের সঙ্গে নদীটির প্রবাহ হারিয়ে গেলেও সেই জলধারার অংশকে পরবর্তীতে লেকে রূপ দেওয়া হয়েছে।
এখন এই লেক ও তার আশপাশের সবুজ পরিবেশ দিয়াবাড়ির সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শহরের ভেতরেই প্রকৃতির এমন খোলামেলা পরিবেশ পাওয়া যায় বলে অনেকেই বিকেলের অবসরে বা ছুটির দিনে এখানে ঘুরতে আসেন।
দিয়াবাড়ির সবচেয়ে পরিচিত অংশ হলো ‘দিয়াবাড়ি বটতলা’। বিশাল বটগাছের ছায়া আর আশপাশের উন্মুক্ত পরিবেশ এই জায়গাটিকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
বন্ধুদের আড্ডা, পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা কিংবা নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য অনেকেই বটতলাকে বেছে নেন। বিকেলের দিকে এখানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, দিয়াবাড়ি এখন অনেক পরিচিত তারকার কাছেও একটি পছন্দের জায়গা। চলচ্চিত্র ও নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসেন। ফলে সময়ের সঙ্গে জায়গাটি আরও বেশি পরিচিতি পেয়েছে তরুণদের কাছে।
দিয়াবাড়ির আরেকটি বড় আকর্ষণ শরৎকালের কাশফুল। বছরের এই সময়টায় সাদা কাশফুলের ঝোঁপ পুরো এলাকাকে এক ধরনের স্নিগ্ধতা ও নান্দনিকতা দেয়। নীল আকাশের নিচে কাশফুলের দোলায়মান দৃশ্য অনেকের কাছে ছবির মতো মনে হয়।
তাই শরৎকালে এখানে ঘুরতে এলে প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপ উপভোগ করা যায়। অনেকেই এই সময় ছবি তুলতে বা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দিয়াবাড়িতে ভিড় করেন।
প্রকৃতি, জলাশয় ও খোলা মাঠের সমন্বয়ে দিয়াবাড়ি এখন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ত নগরজীবনে সামান্য সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে চাইলে এই জায়গাটি অনেকের কাছেই একটি সহজ গন্তব্য।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উত্তরা পর্যন্ত বাসে আসা যায়। উত্তরা আজমপুর বা হাউস বিল্ডিং এলাকায় নেমে সেখান থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা সিএনজি নিয়ে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়িতে পৌঁছানো যায়। মেট্রোরেল ব্যবহার করলেও উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেমে অল্প সময়েই এখানে যাওয়া সম্ভব।
যা দেখবেন
দিয়াবাড়ির বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ, লেক, সবুজ পরিবেশ এবং জনপ্রিয় বটতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়। বিকেলের সূর্যাস্তের সময় লেকের আশপাশের দৃশ্য বিশেষ আকর্ষণীয়। শরৎকালে কাশফুলে ভরা মাঠ দিয়াবাড়িকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।
কোথায় খাবেন
দিয়াবাড়ির আশপাশে ছোটখাটো ফুড স্টল ও ক্যাফে রয়েছে, যেখানে ফাস্টফুড, চা, কফি বা হালকা নাশতা পাওয়া যায়। এছাড়া উত্তরা হাউস বিল্ডিং ও আজমপুর এলাকায় বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেশি-বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
কোথায় থাকবেন
দিয়াবাড়ির কাছাকাছি এলাকায় আবাসিক হোটেল খুব বেশি নেই। তবে উত্তরা এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়। রাজধানীর অন্য এলাকা থেকেও একদিনের ভ্রমণে সহজেই এখানে ঘুরে আসা যায়।

