গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শ্রীফলতলী গ্রামে অবস্থিত শ্রীফলতলী জমিদারবাড়ি দেশের প্রাচীন জমিদারি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
রহিম নেওয়াজ খান চৌধুরীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই জমিদারবাড়ি শুধু একটি বসতভিটাই নয়, বরং এক সময়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
সময়ের প্রবাহে অনেক কিছু বদলালেও, বাড়িটির আভিজাত্য আর নান্দনিকতা এখনো দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। জমিদারবাড়িটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত। বড় তরফ এবং ছোট তরফ।
বড় তরফটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে পুরনো দিনের দালানকোঠা, খিলানযুক্ত বারান্দা এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর ছাপ। বিস্তৃত আঙিনা, পুরনো বৃক্ষরাজি এবং নিস্তব্ধ পরিবেশ মিলে এক ধরনের নস্টালজিক অনুভূতি তৈরি করে।
অন্যদিকে ছোট তরফে এখনো জমিদারের উত্তরাধিকারীরা বসবাস করেন। এই অংশটি সাধারণত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত না হলেও, চলচ্চিত্র বা নাটকের শুটিংয়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, যা এ স্থাপনাটিকে মিডিয়া জগতেও পরিচিত করে তুলেছে।
স্থাপত্যের দিক থেকে শ্রীফলতলী জমিদারবাড়ি বেশ আকর্ষণীয়। লাল ইটের গাঁথুনি, খোদাইকৃত দরজা-জানালা এবং দীর্ঘ করিডোরগুলোতে মুঘল ও ঔপনিবেশিক প্রভাবের মিশেল দেখা যায়।
বাড়ির ভেতরে ও বাইরে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা, যেমন—পুকুরঘাট, প্রাচীন সিঁড়ি এবং উঠান, অতীতের জীবনধারার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বড় তরফের কিছু অংশ সময়ের সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও তার ভগ্ন সৌন্দর্যই যেন ইতিহাসের গভীরতা তুলে ধরে।
যা দেখবেন
বড় তরফে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে পুরনো দালান, প্রশস্ত বারান্দা, শ্যামল পরিবেশ এবং প্রাচীন বৃক্ষরাজি। পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে পাওয়া যায় এক ধরনের প্রশান্তি, যা শহরের কোলাহল থেকে একেবারেই আলাদা।
বাড়ির স্থাপত্যশৈলী ও নিস্তব্ধতা মিলিয়ে এটি ফটোগ্রাফি এবং ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ স্থান।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত বাস বা প্রাইভেট কারে যাওয়া যায়। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন, অটোরিকশা বা ভ্যানযোগে শ্রীফলতলী গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব। রাজধানী থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় একদিনেই ঘুরে আসা যায় এই জমিদারবাড়ি।
কোথায় খাবেন
কালিয়াকৈর বাজার ও আশপাশে বেশ কিছু স্থানীয় রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। ভ্রমণের সময় নিজস্ব খাবার সঙ্গে রাখলে আরও সুবিধা হবে, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গেলে।
কোথায় থাকবেন
শ্রীফলতলী এলাকায় থাকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে গাজীপুর সদর বা ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে থাকার সুযোগ রয়েছে। দিনব্যাপী ভ্রমণের জন্য এটি বেশি উপযোগী, তাই বেশিরভাগ দর্শনার্থী একই দিনে ফিরে যান।
শ্রীফলতলী জমিদারবাড়ি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং সময়ের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া জমিদারি জীবনের এক নীরব দলিল। এর প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি করিডোর যেন অতীতের গল্প বলে, যা ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

