ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে অঙ্গনা রিসোর্ট।
প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা–এর ভাই সৈয়দ আলী মুরাদের উদ্যোগে ২০০৪ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্টটি এখন শহরের কাছাকাছি একটি জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র।
অঙ্গনা রিসোর্টের বিশেষত্ব এর গ্রামীণ আবহ। আধুনিক স্থাপত্যের ভিড়ে এখানে দেখা মেলে মাটির তৈরি ঘর, সবুজে ঘেরা খোলা মাঠ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের এক স্বস্তিদায়ক বিন্যাস।
রিসোর্টে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ, যা পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আড্ডা কিংবা খেলাধুলার জন্য আদর্শ। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা বিনোদন ব্যবস্থা, যা এটিকে পারিবারিক ভ্রমণের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
যা দেখবেন
অঙ্গনা রিসোর্টে রয়েছে একাধিক আকর্ষণীয় স্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম মাটির ঘরগুলো, যেগুলো গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তোলে।
এ ছাড়া রয়েছে একটি বড় সুইমিং পুল, যেখানে গরমের দিনে স্বস্তি মিলবে সহজেই। পুকুরপাড়ে বসে নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা মাছ ধরা, দুটোই উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।
রিসোর্টটির একটি অনন্য দিক হলো পালিত হরিণের ছোট্ট চিড়িয়াখানা, যা শিশু ও দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। প্রকৃতির মাঝে হরিণের চলাফেরা দেখতে পাওয়া শহুরে জীবনে বিরল অভিজ্ঞতা।
কোথায় থাকবেন
অঙ্গনা রিসোর্টে থাকার জন্য রয়েছে ১৪ কক্ষবিশিষ্ট একটি বাংলো। প্রতিটি কক্ষের ভাড়া প্রায় ৫ হাজার টাকা, যা পরিবার বা ছোট গ্রুপের জন্য বেশ সুবিধাজনক।
যারা বড় কোনো আয়োজন বা কর্পোরেট ইভেন্ট করতে চান, তারা পুরো রিসোর্ট ভাড়া নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ পড়ে আনুমানিক ৭৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে।
কোথায় খাবেন
রিসোর্টের ভেতরেই খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত দেশীয় খাবার, গ্রামীণ স্বাদের বিভিন্ন পদ এবং বারবিকিউ আয়োজনের সুযোগ পাওয়া যায়।
আগে থেকে অর্ডার দিলে নিজের পছন্দমতো মেনুও নির্ধারণ করা সম্ভব। তাজা উপকরণ দিয়ে রান্না হওয়ায় খাবারের স্বাদে থাকে আলাদা ঘরোয়া অনুভূতি।
- কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকা থেকে অঙ্গনা রিসোর্টে যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর এমপি চেকপোস্টে। সেখান থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে পৌঁছাতে হয়।
ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা রাইড শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে সহজেই যাওয়া যায়। এছাড়া গণপরিবহনেও রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত এসে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহনে রিসোর্টে পৌঁছানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে অঙ্গনা রিসোর্ট এমন একটি জায়গা, যেখানে গ্রামীণ সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এক অনন্য সমন্বয় পাওয়া যায়। স্বল্প সময়ের অবকাশ ও পারিবারিক আয়োজনের জন্য এটি হতে পারে একটি উপযুক্ত গন্তব্য।

