গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট’ শহুরে ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক ব্যতিক্রমধর্মী গন্তব্য।
জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকির আহমেদ ও বিপাশা হায়াতের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই রিসোর্টটি প্রকৃতি, শিল্পবোধ এবং আধুনিক আরামের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে।
এখানে এসে শুধু বিশ্রামই নয়, বরং নান্দনিক এক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে সময় কাটানো যায়।
রিসোর্টটির প্রধান আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিস্তৃত সবুজ, শান্ত দিঘী এবং কৃত্রিম ঝর্না মিলিয়ে জায়গাটি এক ধরনের কবিতার আবহ তৈরি করে।
সন্ধ্যার পর পূর্ণিমার আলো, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর জোনাকির মৃদু ঝলকানি পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও রহস্যময় ও মোহময়। যারা প্রকৃতির সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্পট।
সুইমিং পুলটি এখানে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। পরিবারের তিন সদস্য পর্যন্ত ফ্রি সুইমিং সুবিধা থাকায় পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের কাছে এটি বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
পাশাপাশি রয়েছে কনফারেন্স হল, যা করপোরেট মিটিং, ওয়ার্কশপ বা ছোটখাটো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযোগী। ১১টি এসি কটেজে আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে আধুনিক সুবিধার সঙ্গে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে পৌঁছানো বেশ সহজ। মহাখালী, উত্তরা বা গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বাস বা প্রাইভেট কারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত আসা যায়।
সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন যেমন অটোরিকশা বা রিকশায় করে রিসোর্টে পৌঁছানো সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে সরাসরি প্রবেশপথ পর্যন্ত যাওয়া যায়।
যা দেখবেন
নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজে মোড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ। দিঘীর শান্ত পানি, কৃত্রিম ঝর্নার শব্দ এবং সুপরিকল্পিত ল্যান্ডস্কেপিং দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
রাতের বেলায় পূর্ণিমার আলোয় চারপাশের পরিবেশ অন্যরকম রূপ নেয়। সুইমিং পুল, খোলা আকাশের নিচে বসার জায়গা এবং নিরিবিলি হাঁটার পথ সব মিলিয়ে এটি একটি সম্পূর্ণ অবকাশকেন্দ্র।
কোথায় খাবেন
রিসোর্টের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। অতিথিদের জন্য নির্ধারিত মেন্যু ছাড়াও অর্ডার অনুযায়ী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফলে বাইরে খাবারের প্রয়োজন সাধারণত হয় না।
কোথায় থাকবেন
নক্ষত্রবাড়িতে আবাসনের জন্য রয়েছে তিনটি ভিন্ন ধরণ।হোটেল কমপ্লেক্সে রেগুলার কাপল রুম ৬৫০০ টাকা থেকে শুরু। নাইট ডিলাক্স কাপল ৮২২২ টাকা এবং টুইন রেগুলার ৬৫৯৭ টাকা প্রতি রাত।
ওয়াটার বাংলোতে ডিলাক্স কটেজ ১০৭৫২ টাকা, প্রিমিয়াম সুইট ২২৭৭০ টাকা এবং ফ্যামিলি সুইট ২০২৪০ টাকা প্রতি রাত।
ফ্যামিলি বাংলোতে পাঁচজনের জন্য দুটি বেডরুম, লেক ভিউ এবং বাচ্চাদের জন্য আলাদা রুমসহ প্যাকেজের মূল্য ২৭৮৩০ টাকা প্রতি রাত।
সব মিলিয়ে, নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট শুধু একটি ভ্রমণস্থল নয়। বরং এটি একটি অভিজ্ঞতার নাম, যেখানে প্রকৃতি, নীরবতা এবং আধুনিকতার মিশেলে গড়ে উঠতে এক অনন্য সময়।

