নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি
যশোর, ১৬ জুন (টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ): সোমবার যশোরের পাঁচ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক কিশোরী, দুই শিশু, এক বৃদ্ধা, এক গৃহবধূ ও এক পুরুষ – মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষপান, পুকুরে ডুবে এবং ঝুলন্ত — ছয়টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
[clec_content_lock]
কেন গুরুত্বপূর্ণ
একই জেলায় একই সপ্তাহে ছয়টি ভিন্ন ধরনের অপমৃত্যু একসঙ্গে ঘটায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অগোচরে শিশুদের পুকুরে ডুবে মৃত্যু, দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আত্মহত্যা এবং ঘরোয়া রাসায়নিক পান – সব মিলিয়ে সচেতনতার অভাব ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির চিত্র ফুটে উঠেছে।
মূল তথ্য
- ঝিকরগাছা — হুজুর আলী (৫৫): বল্লী গ্রামের বাসিন্দা দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কীটনাশক পান করে সন্ধ্যা ৬টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু।
- চৌগাছা — সুরাইয়া আক্তার (১৫): পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের কিশোরী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বিষপান করেন। চৌগাছা ও যশোর হাসপাতালের পর ঢাকা মেডিকেলে সোমবার দুপুর আড়াইটায় মৃত্যু।
- কেশবপুর — সিফাত হোসেন (৩): সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে ডুবে মারা যায়। সোমবার দুপুরে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষণা।
- অভয়নগর — লাবিব (৪): দিঘিরপাড় গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মৃত্যু।
- অভয়নগর — মোহিনী বিশ্বাস (৭৯): বারান্দি গ্রামে সোমবার সকালে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা ধারণা করা হচ্ছে।
- যশোর সদর — সুফিয়া (৩৫): বাগডাঙ্গা এলাকায় অজ্ঞাত কারণে হারপিক পান করে রোববার রাত সাড়ে ১০টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু।
সংবাদটি গভীরে দেখলে: ছয় ঘটনার কমপক্ষে চারটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা পারিবারিক উত্তেজনা দায়ী। সুরাইয়ার মা-সন্তানের দ্বন্দ্ব, মোহিনীর দীর্ঘদিনের মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং হুজুর আলীর দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা — তিনটিই দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার অভাবকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে দুই শিশুর পুকুরে ডুবে মৃত্যুতে পরিবারের তীক্ষ্ণ তদারকির অভাব স্পষ্ট।
প্রেক্ষাপট
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাউন্সেলিং সেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্র সম্প্রসারণের দাবি এই ঘটনার পর নতুন করে জোরালো হচ্ছে।
এরপর কী: পুলিশের তদন্ত চলছে। প্রতিটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশুদের পুকুর-নালা থেকে দূরে রাখার উদ্যোগের কথা বলেছেন।
[/clec_content_lock]

