প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট, ১৬ জুন : সোমবার বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের পৃথক অভিযানে একই দিনে মোট ১১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদক উদ্ধার, পরোয়ানা তামিল, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও নিখোঁজ যুবক উদ্ধার — একাধিক অপারেশনে ১০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং একজন মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিতলমারীতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান এলাকার মাদক চক্র ও পলাতক আসামিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের অংশ হিসেবে চিতলমারী থানা পুলিশের একটি সমন্বিত অপারেশন একই দিনে এতগুলো আইনি ব্যবস্থা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে — যা এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তার প্রমাণ বহন করে। চিতলমারী উপজেলার পাশাপাশি মোল্লাহাট থানার এলাকা থেকেও একজন নিখোঁজকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা দুই থানার সমন্বয়মূলক কাজের উদাহরণ।
মূল তথ্য
- দ্রুত বিচার মামলা: আদালতের নির্দেশে ৪ আসামি গ্রেপ্তার — হাবিবুল্লাহ কাজী, সেলিম মল্লিক, সোহেল কাজী ও দ্বীন ইসলাম মল্লিক।
- পরোয়ানা তামিল: সাজাপ্রাপ্ত আসামি প্রণয় পান্ডে আটক।
- মাদক উদ্ধার: বাঁধন মৃধার কাছ থেকে ৭৫ গ্রাম গাঁজা এবং ইমন শেখের কাছ থেকে ১৭ পিস ইয়াবা জব্দ।
- ভ্রাম্যমাণ আদালত: ইব্রাহীম শেখ, নয়ন ও রুহুল আমিন শেখ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত।
- উদ্ধার: মোল্লাহাট থানায় নিখোঁজ শেখ সাদী চিতলমারীর কলিগাতি বাজার থেকে উদ্ধার — পিতা মাহাতাব শেখের কাছে হস্তান্তর।
ভেতরের খবর: অভিযানে অংশ নেন ১০ সদস্যের পুলিশ দল – এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসআই এএসএম সাকিব নিয়াজ, এসআই লিটন কুমার বিশ্বাস, এএসআই মো. মহিদুল ইসলাম শেখ, এএসআই সজল কুমার রায়, এসআই সুজয় কুমার মল্লিক, এসআই আব্দুস সালাম, এসআই শাহীন, এএসআই আক্তার ও এএসআই রতন। একদিনে গ্রেপ্তার, মাদক জব্দ ও আদালতে প্রেরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে তারা। গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় মাদক বিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রেক্ষাপট: চিতলমারী থানার ওসি বেগম রোকেয়া বলেন, “পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক ব্যবসায়ী, পলাতক আসামি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।” বাগেরহাট জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে চিতলমারীতে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।
এরপর কী
গ্রেপ্তার ও দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রুজু মামলায় পরবর্তী শুনানি আদালতের নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। মোল্লাহাট থানার নিখোঁজ যুবক শেখ সাদীর পরিবার ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

