শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে, যা দেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিক চিত্র: বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। পদত্যাগের পর তিনি ব্যক্তিগত বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
অন্তরালে যা আছে: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জোরালো ছিল। তবে অভিশংসন প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে তাকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
- নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সরকারের আস্থাভাজন একজন চুক্তিভিত্তিক সচিবের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া: সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এরপর কী: রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
সারকথা: মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এখন রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার এই সরে দাঁড়ানোকে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

