ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ৩১ জুলাই ২০২৬
‘জুলাই সনদ ২০২৫‘-এর আলোকে দেশের প্রয়োজনীয় সকল অধ্যাদেশ ও সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
ঝিনাইদহের ওল্ড ডিসি কোর্ট চত্বরে মাসব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ল রিফর্ম কমিশনের মোট ১৩৩টি প্রস্তাব অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল, যার প্রায় সবগুলোই বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। এগুলো বাতিলের কোনো সুযোগ নেই, বরং আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত হয়েছে।
কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “সংসদের চূড়ান্ত অধিবেশনের আগে আমরা ১৭ সদস্যের একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সাতজন সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
বিরোধী দলকে বাকি পাঁচটি নামের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং তারা আগামী সংসদ অধিবেশনে তা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। আমরা তাদের মনোনয়নের জন্য অপেক্ষা করছি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। এই সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণসহ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এই সনদটি পাস হয়। এদিকে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর গণভোটের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, তারা যেহেতু সংসদে আছেন, তাই বিষয়টি সেখানে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
আইন ও বিচার বিভাগের নতুন সংস্কার
আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ কমিশন আইন’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের প্রাথমিক পর্যালোচনা ও অংশীজনদের সাথে আলোচনা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সরকার একটি বিস্তৃত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

