ডেস্ক রিপোর্ট| ৩১ জুলাই ২০২৬
দেশে কর্মসংস্থানের বাজারে প্রতিযোগিতা চরম আকার ধারণ করেছে। করোনাকালীন সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৭ জনে, যা করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে ছিল ১৭৩ জন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া জাতীয় অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও ট্রেন্ড লক্ষ্য করা গেছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাণিজ্য চুক্তি এবং এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর নিয়োগ অন্যতম।
বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রব্বানী ঢাকার একটি সেমিনারে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫৪৭ সপ্তাহের অনলাইন জব পোর্টালের ডাটা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগামী মঙ্গলবার ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ঐতিহাসিক ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
পাশাপাশি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ছিংফেং ঝাং-কে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এফসি বায়ার্ন মিউনিখ প্রাক-মৌসুম ম্যাচে এফসি রটাচ-এগার্নকে ১৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সেমিনারে বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রব্বানী বলেন, “লেবার মার্কেট টাইটনেস মেট্রিক বা শ্রমবাজারের এই সংকীর্ণতা আমাদের দেখায় যে প্রতিটি পদের জন্য কত বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিযোগিতা করছে। এই সংখ্যা যত বাড়বে, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাজার তত বেশি কঠিন হবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে জাপানের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সিইপিএ চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে। এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালীন সময়ে সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারের সক্রিয় পোর্টফোলিও তদারকি করবেন।
উদীয়মান শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগিদ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিকল্পনামন্ত্রী জোনেদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সরকার এখন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে, যাতে তৈরি পোশাক ও ওষুধের পাশাপাশি আইসিটি-র মতো উদীয়মান শিল্পে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়।

