জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কের যানজট নিরসন ও যাতায়াত নিরাপদ করতে চারটি বাইপাস ও একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়কটি বর্তমানে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বিপর্যস্ত। পর্যটন শিল্প ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পের সুফল পেতে এই সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
সামগ্রিক চিত্র:
- প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় পটিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি বাইপাস এবং কেরানীহাটে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
- এই অবকাঠামোগুলো নির্মিত হলে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে যানবাহন দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
সংখ্যায়: প্রস্তাবিত চারটি বাইপাসের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ কিলোমিটার। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন মৌসুম ও ছুটির দিনে পর্যটকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্তরালে যা আছে: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহাসড়কটি ছয় লেনে রূপান্তর বা ভ্রমণের সময় নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার যে দাবিগুলো প্রচার হচ্ছে, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও সরকারি অনুমোদিত নথিপত্র আসার আগে এ ধরনের তথ্যকে অতিরঞ্জিত হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
এরপর কী: প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং রেল যোগাযোগ, গণপরিবহন শৃঙ্খলা এবং ডিজিটাল ট্রাফিক নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।
সংক্ষেপে: এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে গতি আসবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- তবে প্রকল্পের সুফল পেতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যাগুলোও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

