সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে যে, দীর্ঘদিন ডায়াপার ব্যবহার করলে শিশুর মস্তিষ্কে নাকি সঠিক সংকেত পৌঁছায় না এবং সে কারণে শিশু পায়খানা–প্রস্রাবের অভ্যাস শিখতে দেরি করে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বাস্তবে ডায়াপার ব্যবহার শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বা মানসিক বিকাশে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান জানান, সাধারণত শিশুরা ১৮ থেকে ৩০ মাস বয়সের মধ্যে টয়লেট ট্রেইনিং শেখার মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি অর্জন করে। সে কারণে ২ থেকে ৩ বছর বয়স পর্যন্ত ডায়াপার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ। ডায়াপার ব্যবহারের সঙ্গে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বা ‘ব্রেইন সিগন্যাল’ বন্ধ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তার মতে, ডায়াপার নিজেই কোনো সমস্যা নয়, বরং সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন অভিভাবকরা অযথা চাপ প্রয়োগ করেন। শিশুকে সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে ডায়াপার ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেওয়া উচিত।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, সব ডায়াপার শিশুর জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু নিম্নমানের বা লোকাল ব্র্যান্ডের ডায়াপারে শিশুদের ত্বকে র্যাশ কিংবা অন্যান্য চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তাই তুলনামূলক ভালো ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে সহজলভ্য মানসম্মত ডায়াপারের মধ্য থেকে শিশুর জন্য আরামদায়ক ও উপযোগী ডায়াপার নির্বাচন করা জরুরি।
ডা. আব্দুর রহমানের মতে, টয়লেট ট্রেইনিং শেখানোর সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো জোরাজুরি বা চাপ সৃষ্টি করা। এতে শিশুর মধ্যে ভয় জন্মায় এবং শেখার আগ্রহ কমে যায়। ধৈর্য, যত্ন ও শিশুর মানসিক প্রস্তুতি বুঝে শেখানোই সঠিক পদ্ধতি। বেশিরভাগ শিশু ১৮ থেকে ৩৬ মাস বয়সের মধ্যে টয়লেট ট্রেইনিং শুরু করে। নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে শিশুর বিকাশগত প্রস্তুতি বা ‘রেডিনেস’ এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু ডায়াপার ছাড়ার জন্য প্রস্তুত কিনা তা বোঝা যায় কিছু লক্ষণের মাধ্যমে—যেমন নিজে বসতে ও দাঁড়াতে পারা, ডায়াপার ভেজা বা নোংরা হয়েছে তা বুঝতে পারা, প্রস্রাব বা পায়খানার অনুভূতি প্রকাশ করা এবং দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ডায়াপার শুকনো থাকা।
তাঁর মতে, ডায়াপার কোনো শত্রু নয়, ভুল তথ্যই মূল সমস্যা। শিশুর সঠিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ধৈর্য এবং দায়িত্বশীল প্যারেন্টিং।
#আরএ

