ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সরকারি উদ্যোগের পর, রংপুরের কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০০৬ সালের অকার্যকর আইন বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে সোচ্চার হয়েছেন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কারমাইকেল কলেজ দীর্ঘকাল ধরে নানা অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংকটে জর্জরিত। ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনটি কার্যকর না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত বোধ করছেন এবং সরকারি নীতিনির্ধারকদের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিগুলো পুনরায় উত্থাপন করছেন।
সামগ্রিক চিত্র: ২০০৬ সালে ‘রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস হলেও পরবর্তীতে নতুন আইনের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে কারমাইকেল কলেজ তার ঐতিহ্য ও বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি সাধারণ সরকারি কলেজ হিসেবেই রয়ে যায়।
অন্তরালে যা আছে: শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যদি আনন্দমোহন কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, তবে কারমাইকেল কলেজের ক্ষেত্রেও একই ন্যায়বিচার হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন একটি আইন সংসদে পাস হওয়ার পরও তা ধামাচাপা পড়ে রইল এবং কেন কলেজের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বছরের পর বছর অবহেলিত।
সংখ্যায়:
- ২০০৬ সালের ৪৫ নং আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, কারমাইকেল কলেজ বিলুপ্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে এবং এর সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
- বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অথবা কলেজের আধুনিকায়নের জন্য নতুন বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
এরপর কী: শিক্ষার্থীরা এখন আবাসন সংকট দূরীকরণ, নতুন হল নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন এবং বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধির মতো জরুরি দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা আশা করছেন, আনন্দমোহন কলেজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মতো কারমাইকেল কলেজের দীর্ঘদিনের দাবিটিও কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করবে।
সংক্ষেপে: কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখছেন না, বরং তারা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও ক্যাম্পাসের আধুনিকায়নের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা জীবনের গুণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।

