নিয়মিত রাত জাগা ও দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে—এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা সাধারণত রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন এবং দেরিতে ঘুমান, অর্থাৎ ‘নাইট আউল’ বা সন্ধ্যাকালীন মানুষ হিসেবে পরিচিত, তাদের হৃদ্স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিন লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা নিয়মিত দেরিতে ঘুমাতে যান, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি ভোরে ওঠা মানুষদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ নিজেদের ‘সম্পূর্ণ সন্ধ্যাকালীন মানুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়, ‘সম্পূর্ণ সন্ধ্যাকালীন মানুষ’ এবং সাধারণ রাতজাগা মানুষ এক নয়, তবে দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সন্ধ্যাকালীন মানুষদের একটি নির্দিষ্ট ক্রোনোটাইপ থাকে, যেখানে তাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি স্বাভাবিকভাবেই দেরিতে সক্রিয় হয়।
ফলে রাতে মানসিক ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বেশি থাকে, সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে সমস্যা হয় এবং সুযোগ পেলে তারা দেরিতে ঘুমান ও দেরিতে ওঠেন।
গবেষণার প্রধান লেখক, ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক সিনা কিয়ানার্সির মতে, সন্ধ্যাকালীন মানুষদের মধ্যে প্রায়ই সার্কাডিয়ান অসামঞ্জস্য দেখা যায়। অর্থাৎ শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ছন্দ প্রাকৃতিক দিন-রাতের সময়সূচির সঙ্গে খাপ খায় না।
এই হৃদস্বাস্থ্য মূল্যায়নে ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপান ও ঘুমের মানসহ একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রাতজাগা মানুষদের মধ্যে দুর্বল হৃদ্স্বাস্থ্যের প্রবণতা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি, যা নারীদের ক্ষেত্রে আরও প্রকট।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সন্ধ্যাকালীন জীবনধারায় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম ঘুম, ধূমপান ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার প্রবণতা বেশি থাকে, যা হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, জন্মগতভাবে রাতজাগা হওয়া মানেই কম স্বাস্থ্যবান হওয়া নয়। সঠিক ঘুমের সময়সূচি, স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
#

