মানসনদ ছাড়া বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক উৎপাদন-বিক্রির অভিযোগে রাজশাহীর সাহেব বাজারের পিওর লাইভ ফুড বেকারী এন্ড পেস্ট্রিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিএসটিআই ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া উৎপাদিত খাদ্যপণ্য ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। প্যাকেটে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও ওজন না থাকলে ক্রেতা পণ্যের মান যাচাই করার কোনো সুযোগ পান না – এটি সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন।
মূল তথ্য: আজ সোমবার সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীতে বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই মানসনদ গ্রহণ না করেই পণ্য উৎপাদন করছিল। একই সঙ্গে পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, ওজন, মূল্য এবং প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা — কোনো তথ্যই ছিল না।
ভেতরের খবর: রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (নেজারত ও ব্যবসা-বাণিজ্য শাখা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বোরহান উদ্দিন অন্তর এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন। বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরাও অভিযানে উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন।
প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্যপণ্য উৎপাদন করতে হলে অবশ্যই বিএসটিআই মানসনদ নিতে হবে। এই সনদ ছাড়া পণ্য বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজশাহীসহ সারা দেশে এ ধরনের অননুমোদিত খাদ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসটিআই নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। অভিযানের মূল লক্ষ্য – ভোক্তাদের ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
এরপর কী: বিএসটিআই রাজশাহী জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। রাজশাহী মহানগরীর সব খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত বিএসটিআই মানসনদ গ্রহণ করে নিয়মের মধ্যে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

