রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়নে গৃহবধূ আয়েশা বেগমকে (৪৯) নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘর থেকে টাকা লুটের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বরকল থানা পুলিশ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত একটি ইউনিয়নে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে এত দ্রুত রহস্য উন্মোচন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতার বিরল দৃষ্টান্ত। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের একজন মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর হওয়ায় এ অঞ্চলে কিশোর অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যা ঘটেছে:
গত ২১ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শুভলং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বরুনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় রফিজুল হকের বাড়িতে তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ।
- রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
- আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ইট ও একটি হাতুড়ি। পরদিন ২২ জুন নিহতের ছেলে আশরাফ আলী বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৪৪৮/৩৯৪/৩০২/৩৪ ধারায় বরকল থানায় মামলা দায়ের করেন।
যেভাবে ধরা পড়ল: পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বরকল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্র কাজে লাগিয়ে তদন্ত শুরু করে। ২৪ জুন সকালে বরুনাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওমর আলী (১৯) ও কিশোর সোহাগকে (১৭)।
সংখ্যায়: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে সোহাগের ঘরের পাটাতনের নিচ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে করলা বাগানের মাটির নিচ থেকে ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
- মোট উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, যা আসামিরা হত্যার পর ওই বাড়ি থেকে লুট করেছিল।
সামনে কী: আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। কিশোর সোহাগের বিষয়টি কিশোর আদালতে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও আসামি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এক কথায়: পরিকল্পিত হত্যা ও লুটের এই ঘটনায় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে রেকর্ড সময়ে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে – তবে একজন কিশোরের এই নৃশংস অপরাধে জড়িয়ে পড়া সমাজের জন্য গুরুতর সতর্কসংকেত।

