ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শুক্রবার বেলা ১২টায় প্রশাসন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ও আদি লক্ষ্য পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই নতুন নেতৃত্বের আগমন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমান সরকার তাকে এই পদের জন্য যোগ্য মনে করায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে এবং সব সংকটের ইতিবাচক সমাধান করতে নিজের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
মূল প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ২২শে নভেম্বর এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যা একটি সুনির্দিষ্ট উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও জাতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
তবে নবনিযুক্ত উপাচার্য আক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বিগত বিভিন্ন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ও আদর্শিক উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এখন থেকে এই বিচ্যুতি রোধ করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে।
ভেতরের কথা: দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ ও মূল ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময় উপস্থিত জ্যেষ্ট শিক্ষকেরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন প্রশাসনের যাত্রাকে স্বাগত জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবার, ভাষা শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সকলের অংশগ্রহণে আরেকটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রশাসনিক এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইউট্যাব শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন এবং জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামানসহ অন্য শিক্ষকেরা অংশ নেন।
এরপর কী:
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসের সব রাজনৈতিক দল, মত, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনে কাজ শুরু করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতা সামনের দিকে অগ্রসর করার জন্য তিনি দ্রুতই সব অংশীজনের সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করবেন এবং সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

