কুবি প্রতিনিধি| কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম চৌধুরীর ওপর লোহার শিকল দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত করেছে একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহপরান হোসাইন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে এই নৃশংস হামলা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সহপাঠীদের মধ্যে এমন আকস্মিক ও মারাত্মক সহিংসতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূল খবর: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম চৌধুরীর ওপর লোহার শিকল দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠী শাহপরান হোসাইনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত আকরাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বিস্তারিত ও বর্তমান অবস্থা:
- অতর্কিত হামলা: রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে দিয়ে ক্লাসে যাওয়ার সময় আকরামের ওপর পেছন থেকে হামলা করা হয়। লোহার শিকল দিয়ে তার মাথা, চোখ, হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। আশপাশের মানুষ বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শাহপরান গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।
- গুরুতর আঘাত ও চিকিৎসা: আহত আকরামকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চোখের ওপরে ৫টি এবং নিচে ৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। মাথার পেছনে মারাত্মক আঘাত থাকায় চিকিৎসকরা তার সিটিস্ক্যান করিয়েছেন।
- অজ্ঞাত কারণ ও অভিযুক্তের নীরবতা: ভুক্তভোগী আকরাম জানান, কী কারণে তার ওপর এই হামলা হয়েছে তা তিনি জানেন না। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহপরান হোসাইনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
- কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বেলা হুসাইন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল হাকিম অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপাচার্যের (ভিসি) সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে এবং পরবর্তী মিটিংয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আঘাতের তীব্রতা: উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত আকরামকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভুক্তভোগী আকরামের চোখের ওপরের কোনায় ৫টি এবং নিচের অংশে ৩টি সহ মোট ৮টি সেলাই দিয়েছেন। মাথার পেছনে মারাত্মক এবং গভীর জখম হওয়ার কারণে চিকিৎসকরা তার মাথায় জরুরি সিটিস্ক্যান করিয়েছেন এবং হাত ও পিঠ জুড়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন।
ভেতরের কথা: আকরাম দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না এবং শাহপরান কেন তার ওপর এমন হিংস্র হামলা চালালো সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারেই রয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহপরানের সঙ্গে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে বা নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে যা ঘটেছে : আকরাম এই বর্বরোচিত হামলার বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন। সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বেলা হুসাইন আশ্বস্ত করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: আবদুল হাকিম জানিয়েছেন যে তিনি অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছেন এবং উপাচার্যের সাথে কথা বলে দ্রুত একটি জরুরি সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

