শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদে পঞ্চম দিনের মতো সর্বাত্মক ব্লকেড কর্মসূচি চালিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই অনমনীয় অবস্থান দেশের বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিকারের দাবিকে জোরালো করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণের আলটিমেটাম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বিবৃতির কারণে এই সংকটের মাত্রা ও প্রশাসনিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
মূল ঘটনা: গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ শুরু করে। বর্তমানে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভেতরের কথা: শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো, ডুয়েটের সর্বোচ্চ উপাচার্য পদটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পূরণ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের মতে, ডুয়েটের বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থা, অ্যাকাডেমিক অনন্য কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো বাইরের কোনো শিক্ষকের চেয়ে নিজস্ব শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় অনেক বেশি কার্যকর ও সুন্দরভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
সংখ্যায়: গত রবিবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগত ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটির জেরে দিনভর দফায় দফায় চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এই মারাত্মক সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে যা ঘটে: ক্যাম্পাস চত্বরকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখার অনড় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রাখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন নতুন উপাচার্য পরিবর্তন কিংবা শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘমেয়াদি দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা কী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ডুয়েটের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসা।

