যশোরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের দমনে পুলিশি তৎপরতায় এটি একটি বড় সাফল্য।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ওরফে ‘ভাগ্নে ইমন’কে গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে নাশকতা ও ভীতি সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এই গ্রেফতার রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মূল ঘটনা
যশোর শহরের চাঁচড়া রেলগেট এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ওরফে ‘ভাগ্নে ইমন’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সে শহরের রায়পাড়া এলাকার খালিদ কাজীর ছেলে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে তাকে কড়া পুলিশি পাহাড়ায় যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পেছনের গল্প
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় যশোর শহরের পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন আজিজ সিটি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ একত্রিত হয়ে মোমবাতি ও হারিকেন নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রাতের অন্ধকারে বের হওয়া এই মিছিল থেকে দেশবিরোধী স্লোগান এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলে এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জানা যায় যে, এই ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের পেছনে অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে সন্ত্রাসী ‘ভাগ্নে ইমন’ সক্রিয় ছিল। মামলার তদন্তে তার স্পষ্ট সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসার পরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
১২টি মামলার দুর্ধর্ষ রেকর্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ইমন ওরফে ভাগ্নে ইমন যশোর শহরের একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, মারামারি, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রায়পাড়া এবং চাঁচড়া এলাকায় সে নিজের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিল, যা দিয়ে সে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করত।
সামনে কী
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ভাগ্নে ইমনের গ্রেফতারের পর তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারেও সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। পুলিশ তার ১২টি মামলার পূর্ববর্তী ইতিহাস পর্যালোচনা করে অধিকতর তদন্তের জন্য প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করতে পারে। যশোরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না এবং শহরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

