ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি | ময়মনসিংহের ত্রিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনের দেয়ালঘেঁষে অবস্থিত সরকারি পুকুরটি ঘিরে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পে সড়কের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
একই পুকুর ঘিরে বিভিন্ন সময়ে কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কোনোটিই স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ২০২৪ সালে প্রায় অর্ধকোটি টাকায় গৃহীত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মাছ চাষ প্রকল্পও সংশ্লিষ্ট ইউএনও বদলির পর বন্ধ হয়ে গেছে — এখন সেই যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
মূল তথ্য
- বর্তমান প্রকল্প (২০২৫-২৬): এডিপির আওতায় পুকুরের একপাশ ভরাট করে সড়কের গতিপথ পরিবর্তনে ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৫২ টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান।
- ২০২৪-২৫: ‘কোভিড-১৯’ প্রকল্পে পুকুরে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকা ও এডিপিতে লাইট স্থাপনে ৪১ হাজার ৮২৭ টাকা ব্যয়।
- ২০২৪ (সাবেক ইউএনও জুয়েল আহমেদের উদ্যোগ): এআইভিত্তিক মাছ চাষ প্রকল্পে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়; প্রকল্প চালুর ছয় মাসের মাথায় বন্ধ।
- ঠিকাদার পাওনা: খাইরুল ইসলাম নামের ঠিকাদারের পুকুর খনন বাবদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি। বিশ্বাস ফিশ ফিডের পাওনা মাছের খাদ্যের মূল্যও বকেয়া রয়েছে।
গভীরে দেখলে
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকি সম্প্রতি সংস্কার করা আহাম্মদ সরকার সড়কটির গতিপথ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। দুই বছর আগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃসংস্কার হওয়া এই সড়কটির পুনরায় নতুন করে পরিবর্তনে অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পৌরসভা থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রেক্ষাপট
স্থানীয়দের দাবি, নতুন কোনো ইউএনও দায়িত্ব গ্রহণ করলেই পুকুর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং এসব প্রকল্পের বিপরীতে লক্ষ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নেওয়া হয়। গাইড ওয়াল নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, বসার স্থান ও টাইলস স্থাপনসহ নানা খাতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো প্রকল্পই স্থায়ীভাবে আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ।
এরপর কী
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পগুলোর সুফল ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঠিকাদার খাইরুল ইসলাম জানান, “পুকুর খনন বাবদ আমার ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি টাকাও পরিশোধ করা হয়নি।” বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

