রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে প্রতিবেশী দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণার মাধ্যমে এই মামলাটি দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় প্রদানের এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি করল।
- এটি দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।
মূল ঘটনা: ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
- রায়ে মূল হত্যাকারী সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা এবং ঘটনার সহযোগী ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের সাথে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
- গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার খণ্ডিত ও মস্তকহীন মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
ভেতরের খবর
- নৃশংসতার চিত্র: ইয়াবা সেবনকারী সোহেল রানা পাশের ফ্ল্যাটের শিশু রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে তার মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখে।
- স্ত্রীর সহযোগিতা: সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজে উপস্থিত থেকে কৌশলে শিশুটিকে ফ্ল্যাটের ভেতর ডেকে এনে এই অপরাধে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন।
- আগামীতে কী ঘটবে: দ্রুততম সময়ে আসা এই রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার সম্পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। উচ্চ আদালতে এই সাজার রায়ের ডেথ রেফারেন্স বা অনুমোদন এবং আসামিপক্ষের আপিল দায়েরের আইনি লড়াইয়ের দিকেই এখন সবার নজর থাকবে।
মূল কথা
সাধারণত বাংলাদেশে স্পর্শকাতর ফৌজদারি মামলাগুলোর বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। তবে এই মামলায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করে, মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করা প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

