কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর মধ্যবর্তী পদ্মার দুর্গম চরে বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গোলাগুলির ঘটনায় আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন সম্পূর্ণভাবে একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বালুঘাট দখল ও ফসলি জমির নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব বাহিনী প্রকাশ্যে একে-৪৭-এর মতো অত্যাধুনিক ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ওই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সার্বিক জননিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।
সার্বিক চিত্র:
- রাজশাহীর বাঘা এলাকার মন্ডল বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর মধ্যে নদী ও দুর্গম চরে এই ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ ঘটে।
- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দ হাজার মৌজার হবির চর থেকে শুরু করে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত এই সশস্ত্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
- নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে এবং তিনি কাঁকন বাহিনীর কথিত বালুমহালের ম্যানেজার ছিলেন।
- তার মাথায় গুলির চিহ্নযুক্ত মরদেহটি নাটোরের লালপুর এলাকার চরজাজিরা মৌজার পদ্মা নদীতে একটি স্পিডবোট থেকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ।
নেপথ্যের কথা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এই সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সংঘাত চললেও সেখানে প্রশাসনের কোনো কার্যকর অভিযান নেই। স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থার এই অভাবেই সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। এলাকাটিতে দৌলতপুরের নাহারুল বাহিনীসহ আরও একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য জাহির করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
- ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের এই ভারী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই দুর্গম চরাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও স্থায়ী শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- রাজশাহী রেঞ্জ নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোহেল রানা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনার নিবিড় তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সংখ্যায় সংখ্যায়:
- ১০০+: বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষের ছোড়া গুলির আনুমানিক সংখ্যা।
- ৩: গত বছরের ২৭ অক্টোবর পদ্মার চরের কাশবনের জমি দখল নিয়ে এই কাঁকন ও মন্ডল গ্রুপের একই রকম এক সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা।

