মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে পলিথিনে মুড়িয়ে মেঝেতে ফেলে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত নার্সের বিরুদ্ধে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ:
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চরম অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সঠিকভাবে পরীক্ষা না করেই একটি তাজা প্রাণকে মৃত ঘোষণার এই অপচেষ্টা চিকিৎসাব্যবস্থার মান নিয়ে গভীর শঙ্কা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি:
গত মঙ্গলবার রাতে পেটের ব্যথা নিয়ে ২৫ বছর বয়সী প্রসূতি আখি আক্তার হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বুধবার ভোরে হাসপাতালের বেডেই তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, জন্মের পর থেকেই শিশুটি জীবিত ছিল এবং নড়াচড়া করছিল। কিন্তু কোনো ধরনের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই এক নার্স শিশুটিকে মৃত বলে দাবি করেন এবং নির্মমভাবে একটি পলিথিনে মুড়িয়ে নবজাতকের নানির সামনেই মেঝেতে ফেলে রাখেন।
ভেতরের কথা:
কিছুক্ষণ পর পলিথিনের ভেতরে নবজাতকের নড়াচড়া দেখতে পেয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। ঘটনাটি হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের মাঝেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতকটি বর্তমানে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
এক কথায়:
চিকিৎসায় অবহেলার এই ভয়াবহ দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যা হাসপাতালে সেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

