জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ: এই আয়োজনটি জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে জাগ্রত রাখার পাশাপাশি জাতীয় শোক ও সংহতির বার্তাকে ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিয়েছে।
মূল ঘটনা: বৃহস্পতিবার বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
খবরের পেছনে: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম এই আয়োজনে শহীদ পরিবারের আইনি সহায়তা এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে যথাযথভাবে গ্রহণ করতে হবে।
এরপর কী: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে বা ক্যাম্পাসের স্মৃতিফলকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
প্রশাসনিক সংহতি: ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি ক্যাম্পাসে এক শোকাবহ অথচ সংহতিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা: ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী খান মোহাম্মদ নাঈমসহ উপস্থিত শিক্ষার্থীরা শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিমসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই বীরদের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
সংক্ষেপে: জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কোনোদিন ভুলবে না এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছে। এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য প্রার্থনা করেছেন।

